Porasuna | Blog community for Educational Content

JobsNews24

The Most Popular Job Site in Bangladesh

বিসিএস প্রশাসনঃ এক বৈচিত্রময় ও চ্যালেঞ্জিং পেশার নাম

Category: BCS Section Posting Date: 2016-12-08


( প্রশাসনে এক বছর পূর্তি উপলক্ষে লেখাটি তাদের জন্য যারা প্রশাসনে আসতে চান (বুঝে ও না বুঝে) তাদের জন্য এবং যারা মনে করেন প্রশাসন শুধু খায় আর ঘুমায়)

৩৩ তম বিসিএসে প্রথম পছন্দ দিয়েছিলাম প্রশাসন। ভাইবার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশিবার যেটা পড়েছি আর সিনিয়র স্যারদের কাছ থেকে শুনেছি তা হল এই ক্যাডারের কাজের বৈচিত্রতা। তুমি প্রশাসনে কেন আসতে চাও? মুখস্ত উত্তর, স্যার প্রশাসন ক্যাডার খুবই বৈচিত্রময় ক্যাডার। এখানে কাজ করে তৃপ্তি পাওয়া যায়, একগেয়েমি আসে না, তাছাড়া এই ক্যাডার থেকেই সবচেয়ে বেশি সচিব হন ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু বাস্তবে এই বৈচিত্রতা জিনিসটা কি সেটা বুঝলাম চাকুরিতে যোগদান করে। ২০১৪ সালের ৭ই আগস্ট কমিশনার, ঢাকা বিভাগের অফিসে যোগদান করি। তারপর ১৩ই আগস্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় , নেত্রকোণায় সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করি। আগামী ৭ই আগস্ট প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এক বছর পূর্তি হবে। এই এক বছরে প্রশাসন ক্যাডারে কাজের বৈচিত্রময় অভিজ্ঞতা নিয়ে আজ লিখব। যারা আগামীতে প্রশাসনে আসতে চান তাদের কিছুটা হলেও কাজে আসবে আশা করি। আর প্রশাসনে কাজের ব্যাপারে অনেক স্বচ্ছ ধারণা ও আসবে অনেকের। আর আরও আশা করি যারা মনে করেন প্রশাসন খায় আর ঘুমায় তাদের ধ্যান ধারণা পাল্টাবে। আশেপাশের যারা আছেন তারাও একটা ধারণা পাবেন নিজের কাজ এবং প্রশাসনের কাজ সম্পর্কে।

যাই হউক, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদানের পর একজন সহকারী কমিশনার( প্রবেশনার) হিসেবে কাজ করে থাকেন আমিও তাই। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( সার্বিক) প্রবেশনার অফিসারদের সার্বিক তত্বাবধায়ন করে থাকেন। কালেক্টরেটে প্রবেশনার অফিসারদের জন্য এক বছরের কর্ম কালীন প্রশিক্ষণ (অন দি জব ট্রেনিং) শুরু হয়। কর্মকালীন প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই কালেকটরেটের বিভিন্ন শাখায় আমি ও আমার সহকর্মী জাদিদ যেতাম এবং শাখায় কি কি কাজ হয় তা দেখতাম। সংশ্লিষ্ট শাখার অফিসার আমাদের শাখার বিভিন্ন কাজকর্ম সম্পর্কে ব্রিফ করতেন। এইভাবে আমরা কাজ শিখতে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন শাখার দায়িত্ব ও এসে পড়ে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিসার সংকটের কারণে একেকজন সহকারী কমিশনারদের কে বিভিন্ন শাখার দায়িত্ব পালন করতে হয়। এরই অংশ হিসেবে বর্তমানে সহকারী কমিশনার(গোপনীয়), আরডিসি (রাজস্ব শাখা), ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা (ভূমি হুকুম দখল শাখা), সহকারী কমিশনার (স্থানীয় সরকার শাখা), সহকারী কমিশনার (প্রবাসী কল্যান শাখা), সহকারী কমিশনার (ই সেবা), সহকারী কমিশনার (আইসিটি) এবং সহকারী কমিশনার (ভিপি সেল) এর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এ সাথে প্রটোকলের দায়িত্ব, মোবাইল কোর্ট, এবং বিভিন্ন মামলার তদন্ত সংক্রান্ত কাজত আছেই।

এ শাখাগুলোর কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারছি আসলে জেলা প্রশাসক তথা জেলা প্রশাসনের কাজের বৈচিত্রতা আসলে কি। একজন জেলা প্রশাসককে ও তার অফিসারদের ২৪ ঘন্টা কান খাড়া রাখতে হয়, চোখ খোলা রাখতে হয়। আমার জেলার জেলা প্রশাসক গড়ে ১৭-১৮ ঘন্টা ডিউটি করেন। অন্যান্য স্যাররাও তাই। আমার কলিগরা সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাও গড়ে ১৪-১৭ ঘন্টা ডিউটি করে থাকেন।

এখানে একজন অফিসারের প্রবেশন পিরিয়ডে ছুটির কথা চিন্তা ও করা মহাপাপ হঊক সেটা ঈদ ! শুক্র-শনি বলে কিছু নাই, রাত ২ টা বা ৩টা বলে কিছু নাই। যখনই দরকার তখনই চলে যেতে হবে ডিউটিতে। আপনাকে সবসময় ফরমাল ভাব পোশাকে ও চিন্তায় রাখতে হবে। মোবাইলখানা কানের পাশে নিয়ে ঘুমাতে হবে যেন কোন কল মিসিং না হয়।

জেলা প্রশাসনের কাজের ক্ষেত্র যে এত বিশাল তা বলে শেষ করা যাবে না। তদুপরি আমি এখানে খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন শাখায় কি কি কাজ হয় তার একটা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়ার চেষ্টা করলাম। এতে সেবা প্রত্যাশীরা অনেকে জানতে পারবেন যে আসলে এ কার্যালয়ে কি কি সেবা পাওয়া যায়। যদিও সকল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সমান শাখা নেই তবুও নিম্নলিখিত শাখাগুলো বেশিরভাগ কালেক্টরেট তথা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আছে এবং ঐ সকল কার্যালয় থেকে নিম্নে বর্ণিত সেবা প্রদান করা হয়।

উল্লেখযোগ্য শাখাগুলো হল।

১। জেলা প্রশাসকের গোপনীয় শাখা।

২। সাধারণ শাখা।

৩। নেজারত শাখা।

৪। রাজস্ব শাখা।

৫। ভূমি হুকুম দখল শাখা

৬। স্থানীয় সরকার শাখা

৭। পাসপোর্ট শাখা (এখন জেলায় জেলায় পাসপোর্ট অফিস থাকায় সকল ডিসি অফিসে আর এ শাখা নেই)

৮। ব্যবসা বানিজ্য শাখা।

৯। সংস্থাপন শাখা।

১০। ট্রেজারি শাখা।

১১। জেনারেল সার্টিফিকেট শাখা।

১২। লাইব্রেরি শাখা।

১৩। ফরমস ও স্টেশনারি শাখা

১৪। রেকর্ড রুম শাখা

১৫। প্রবাসী কল্যান শাখা।

১৬। ত্রান শাখা

১৭। আইসিটি শাখা

১৮। ই সেবা শাখা।

১৯। শিক্ষা ও কল্যান শাখা।

২০। তথ্য ও অভিযোগ শাখা।

২১। জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা।

২২। সিভিল স্যুট শাখা

২৩। ভিপি সেল

২৪। এনজিও শাখা।

এর বাইরেও আরও বেশ কিছু শাখা আছে। প্রতিটা শাখায় একজন সহকারী কমিশনার দায়িত্বপ্রাপ্ত বা ক্ষেত্র বিশেষে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাছাড়া সহকারী কমিশনারগণ ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সিআরপিসি কোর্ট ও মোবাইল কোর্ট করে থাকেন।

একজন জেলা প্রশাসক, জেলার প্রধান সমন্বয়কারী এবং জেলার অভিবাবক হিসেবে তাকে যে কি পরিমাণ কাজ করতে হয় তা কল্পনাতীত। জেলা প্রশাসকের এই কাজগুলো তাঁর অফিসারগণ ক্ষেত্রবিশেষে করে থাকেন। সুষ্টুভাবে কাজ সম্পাদনের জন্য সহকারী কমিশনার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং উপপরিচালক স্থানীয় সরকার (উপসচিব) তাকে সহায়তা করে থাকেন।

যাই হউক, এ পর্যায়ে কালেক্টরেটের বিভিন্ন শাখার কাজের কিছু অতি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিচ্ছি । এতে করে ডিসি অফিসে কাজের বৈচিত্রতা সম্পর্কে এবং সেবা সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করি।

১। জেলা প্রশাসকের গোপনীয় শাখা।

এটি মূলত জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত শাখা। এ শাখার কর্মকর্তা কর্মচারী গণ সরাসরি জেলা প্রশাসকের তত্বাবধায়নে কাজ করে থাকেন অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সহিত। এ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার বা সহকারী কমিশনার (গোপনীয় বলে)।

রাস্ট্রের যাবতীয় গোপনীয় বিষয়াদি।

এফ সি আর বা পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর প্রতিবেদন

জেলা প্রশাসকের যাবতীয় পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রস্তুত ও বিতরণ।

উচ্চপর্যায়ের সভা/সন্মেলনের কাগজপত্র প্রস্তুত।

প্রিভেনশন ও ডিটেনশন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ।

রাজনৈতিক বিষয়াদি, বিভিন্ন প্রকার গোপনীয় বিষয়াদি প্রস্তুত ও প্রেরণ।

জেলা প্রশাসকের ছুটি, কর্মস্থল ত্যাগ ও ঢাকা গমন সংক্রান্ত কাজ এ শাখা থেকে সম্পন্ন করা হয়, ইত্যাদি।

২। সাধারণ শাখা।

ইংলিশ সেকশন নামে পরিচিত এ শাখা কালেক্টিরেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। মূলত নিম্নলিখিত কাজগুলো এ শাখায় করা হয়।

জেলা প্রশাসনের যাবতীয় চিঠিপত্র গ্রহন ও প্রেরণ।

বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সংক্রান্ত কাজ।

সার্ভিস পোস্টেজ সংক্রান্ত কাজ।

হজ ও অন্যান্য ধর্মীয় কাজ।

সাংস্কৃতিক বিষয়াদি ইত্যাদি।

৩। নেজারত শাখা।

কালেক্টরেটের অতি গুরুত্বপূর্ণ শাখা যার উপর জেলা প্রশাসনের ভাবমূর্তি অনেকাংশে নির্ভর করে। এ শাখায় মূলত নিম্নের কাজগুলো হয়।

প্রটোকল ও বিশিষ্ট অতিথিবর্গের ভ্রমণসূচি অনুযায়ী কার্যক্রম।

রাষ্টীয়, সরকারি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের ব্যবস্থপনা।

সার্কিট হাউজ, রেস্ট হাউজ, ডাক বাংলো ইত্যাদি ব্যবস্থাপনা।

যানবাহন হুকুম দখল সংক্রান্ত কাজ।

কর্মচারী সংস্থাপন, প্রসেস জারি, উমেদার সংক্রান্ত বিষয়।

অফিস মেশিনারি ও যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা।

সরকারি বাসা বরাদ্দ সংক্রান্ত কাজ।

গুপ্তধন ও অন্যান্য অস্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজ।

পরিবহন পুলের যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও জালানী তেলের হিসাব সংরক্ষণ।

শিক্ষানবিশ অফিসারদের তত্বাবধায়ন সহ নানা ধরণের কাজ। এশাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নেজারট ডেপুটি কালেক্টর বা এনডিসি বলা হয়।

৪। রাজস্ব শাখা।

মূলত এ শাখায় ভুমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করা হয়। এটি জেলা প্রশাসনের একটি প্রাচীন কাজ। এ শাখার প্রধান প্রধান কাজগুলো হল।

খাস জমি ব্যবস্থপনা

সায়রাত মহল ব্যবস্থাপনা।

ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ ও আদায়

ভূমি সংস্কার কার্যক্রম।

সিকস্তি পয়স্তি সংক্রান্ত কাজ।

জরিপ ও ভূমি রেকর্ড সংক্রান্ত কাজ।

আশ্রয়ন সংক্রান কাজ, ইত্যাদি।

৫। ভূমি হুকুম দখল শাখা

বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ভূমি অধিগ্রহণ করতে হয়। এ শাখার প্রধান কাজ হল।

ভূমি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল সংক্রান্ত কাজ।

অধিগ্রহণকৃত, প্রয়োজনের অতিরিক্ত/ অব্যবহৃত জমি প্রত্যর্পণ/ পুনরগ্রহন।

স্থান নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ।

ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত কাজ।

বিবিধ।

৬। স্থানীয় সরকার শাখা

সাধারণত নিম্নোক্ত কার্যাদি এ শাখা থেকে হয়ে থাকে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সংগে সমন্বয়।

ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অনুমোদন।

গ্রাম পুলিশ নিয়ন্ত্রণ এবং বেতন, ভাতা, পোশাক ও সাজ সরঞ্জাম প্রদান।

ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শপথ, প্রশিক্ষণ ও সন্মেলন সংক্রান্ত কাজ।

চেয়ারম্যান, মেম্বারদের ভাতা সংক্রান্ত কাজ।

ইউপি সচিবদের নিয়োগ, বেতন, ভাতা, প্রশিক্ষণ ও বিভাগীয় কার্যক্রম সংক্রান্ত কাজ।

ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন কার্যক্রম। হস্তান্তরিত হাটবাজার, ফেরিঘাট, খেয়াঘাট নিলাম , কর আদায়ের রেট নির্ধারণ।

শুমারি ও ইউপি নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ সহ নানা কাজ।

৭। পাসপোর্ট শাখা (এখন জেলায় জেলায় পাসপোর্ট অফিস থাকায় সকল ডিসি অফিসে আর এ শাখা নেই)। মূলত পাসপোর্ট প্রদান সম্পর্কিত যাবতীয় কাজ এ শাখা থেকে করা হয়।

৮। ব্যবসা বানিজ্য শাখা।

ব্যবসা বানিজ্য সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব সংক্রান্ত কাজ এ শাখা বাস্তবায়ন করে থাকে। শাখার কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ হল;

অত্যাবশ্যকীয় পন্য নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ,১৯৮১ সম্পর্কিত কাজ।

অত্যাবশ্যকীয় পন্যের ডিলিং লাইসেন্স প্রদান।

টিসিবি আমদানিকৃত পন্যের ডিলার, সাব ডিলার নিয়োগ ও উপ বরাদ্দ প্রদান।

ইট ভাটা সংক্রান্ত কাজ।

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ও কৃষি দ্রব্যের বাজার দর স্থিতিশীল রাখা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কাজ।

খোলা বাজারে বিক্রয় সংক্রান্ত কাজ।

জ্বালানি তৈল/ বিস্ফোরক বিক্রয়ের সনদ প্রাপ্তির অনাপত্তি সার্টিফিকেট প্রদান শ নানা ধরনের কাজ, ইত্যাদি।

৯। সংস্থাপন শাখা।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারী সংস্থাপন এ শাখার কাজের অন্তর্ভুক্ত।

এ শাখায় নিম্নলিখিত কাজ হয়ে থাকে;

কর্মকর্তা ও ৩য় শ্রেনির কর্মচারী সংস্থাপন।

অফিস ব্যবস্থাপনা।

স্টাফ মিটিং।

কর্মচারী হাজিরা নিশ্চিতকরণ।

৩য় শ্রেনির কর্মচারীদের চাকুরি বহি এসিয়ার সংরক্ষন ও গ্রেডেশন তালিকা প্রনয়ণ।

কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ।

বিভাগীয় পরীক্ষা, বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত কাজসহ নানা কাজ।

তাছাড়া বদলি, ছুটি, চাকুরি স্থায়ীকরন, পেনশন সহ আরও নানা রকমের কাজ হয়ে থাকে।

১০। ট্রেজারি শাখা।

এ শাখায় অন্যতম কাজ হল;

বিভিন্ন প্রকার স্টাম্প সংগ্রহ, সরংক্ষণ ও বিতরণ।

বিভিন্ন প্রকার গোপনীয় এবং মূল্যবান দলিল ও দ্রব্যাদি সংরক্ষণ।

স্টাম্প ভেন্ডার সংক্রান্ত কাজ স্টাম্প বিষোয়ক ফৌজদারি অপরাধ সংক্রান্ত কাজ ইত্যাদি।

১১। জেনারেল সার্টিফিকেট শাখা।

মূলত সরকারি পাওনা আদায় আইন,১৯১৩ এর মাধ্যমে এ শাখায় কাজ করা হয়ে থাকে। এ শাখার অন্যতম কাজ হল।

জেলার সার্টিফিকেট মামলা গ্রহণ ও পরিচালনা।

এক্ষেত্রে সার্টিফিকেট দাখিল, সার্টিফিকেট দেনাদারের কাছে নোটিশ জারি, ক্রোকাবদ্ধ সম্পত্তির নিলাম, দেওয়ানি কয়েদে প্রেরণ, রিভিশন, আপিল সহ নানাবিধ কাজ হয়ে থাকে।

মামলা সংক্রান্ত রিপোর্ট রিটার্ন দাখিল ও এ শাখার কাজ।

১২। লাইব্রেরি শাখা।

কালেক্টরেট লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা। নতুন পুস্তক সংগ্রহ বা ক্রয়। পুস্তক সংরক্ষণ।

১৩। ফরমস ও ষ্টেশনারী শাখা

ফরমস ও স্টেশনারি সংগ্রহ ও বিতরণ। সরকারি ফরমস পরিবর্তন ও বিতরণ। বাংলাদেশ গেজেট সংরক্ষণ। বিবিধ।

১৪। রেকর্ড রুম শাখা

কালেক্টরেট এবং এর অধীনস্ত অন্যান্য অফিসের যাবতীয় নথি ও দলিলপত্র সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি জেলায় একটি করে রেকর্ড রুম বা মহাফেজখানা আছে। এ শাখার প্রধান কাজগুলো হল।

পাবলিক রেকর্ড সংরক্ষণ।

রেকর্ড পত্রের সারটিফাইড কপি বা জাবেদা নকল প্রস্তুত ও সরবরাহ।

মৌজা ম্যাপ ও অন্যান্য নকশা সংরক্ষণ ও বিক্রয়।

রেকর্ডের শ্রেনি বিন্যাস, বাছাই ও ধ্বংসকরণ।

বিভিন্ন দেওয়ানি, ফৌজদারি ও রাজস্ব আদালতের চাহিদা মোতাবেক মূল রেকর্ড বা তথ্য সরবরাহ।

কারেকশন নোটিং ইত্যাদি।

১৫। প্রবাসী কল্যান শাখা।

প্রবাসীদের বিভিন্ন অভিযোগ সংক্রান্ত কাজ। বিদেশে যেতে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাজ। ইত্যাদি।

১৬। ত্রান শাখা

যদিও এটি কালেক্টরেটের মূল শাখা না তবুও এশাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে।

ত্রান সামগ্রী সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা। কাবিখা বাস্তবায়ন। ভিজিডি বাস্তবায়ন। উদ্বাস্তু সংক্রান্ত কাজ সহ নানা কাজ।

১৭। আইসিটি শাখা

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের আইসিটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন জেলা পর্যায়ে সম্পূর্ণ জেলা প্রশাসকের উপর বর্তেছে। আর এ কাজ সাহসিকতার সাথে করে যাচ্ছে এ কার্যালয়ের আইসিটি শাখা। সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার আর একাজে আইসিটি শাখা কাজ করে যাচ্ছে। ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে প্রোগ্রাম আয়োজন ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস সংক্রান্ত কাজ,ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার সংক্রান্ত কাজ , আউটসোরসিং এর প্রসার সহ নানা কাজ করে যাচ্ছে আইসিটি শাখা।

১৮। ই সেবা শাখা।

সকল ধরণের দাপ্তরিক ও নাগরিক আবেদন এ শাখার মাধ্যমে গ্রহন করা হয়। এ শাখা ফ্রন্টডেস্ক নামে পরিচিত।

১৯। শিক্ষা ও কল্যান শাখা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত কাজ। পাবলিক পরীক্ষা বিষয়ক কাজ। এতিমখানা, শিশু সদন ও যাবতীয় টড়াস্ট বিসয়ক কাজ। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিসয়ক কাজ ।

২০। তথ্য ও অভিযোগ শাখা।

তথ্য অধিকার আইন,২০০৯ অনুযায়ী তথ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা এবং মানুষের বিবিধ বিষয়ের অভিযোগ গ্রহন করে তার সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহন। বেনামি পত্রের অভিযোগ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ।

২১। জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখাঃ এ শাখার অন্যতম কাজ হল।

জেলা ম্যাজিস্টসি সংক্রান্ত কাজ।

আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ক সভার কাজ।

চোরাচালান প্রতিরোধ সংক্রান্ত কাজ।

মুদ্রণ, প্রকাশনা এবং প্রিন্টিং প্রেস সংক্রান্ত কাজ।

জেলখানা সংক্রান্ত কাজ।

ফৌজদারি আদালত সংক্রান্ত কাজ।

জজ কোর্ট, হাইকোর্ট ও সুপ্রীম সংক্রান্ত কাজ।

আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত কাজ।

সিনেমা হল ব্যবস্থাপনা।

মোবাইল কোর্ট সংক্রান্ত কাজ।

প্রদর্শনী, সার্কাস, যাত্রা, আনন্দমেলা ইত্যাদি সংক্রান্ত কাজ।

জন্ম ম্রত্যুর হিসাব বিষয়ক কাজ। আনসার ও ভিডিপি সংক্রান্ত কাজ। বিবিধ।

২২। রেভিনিউ মুন্সিখানা বা সিভিল স্যুট শাখাঃ এ শাখার অন্যতম কাজগুলো হল;

সরকারি স্বার্থ সম্বলিত দেওয়ানি মামলা তদারকি।

রাজস্ব মামলা বিষয়ক কাজ।

নষ্ট স্টাম্পের মূল্য ফেরত সংক্রান্ত কাজ।

ওয়াকপ দেবোত্তর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা।

স্থাবর সম্পত্তির ওপর ডিক্রি জারির জন্য কালেক্টরকে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ।

২৩। ভিপি সেল

অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ এ শাখা করে থাকে।

২৪। এনজিও শাখা।

বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও এনজিও ব্যবস্থপাওনা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ এ শাখা করে থাকে।

ম্যাজিস্ট্রেসি ও মোবাইল কোর্ট সংক্রান্ত কাজঃ বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সহকারী কমিশনারগণ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রমকে পরিচালনা করিবার সময় তফিসিলে বর্ণিত (প্রায় ১০০ আইনের অধীন) আইনের অধীন কোণ অপরাধ, যাহা কেবল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য, তাঁহার সম্মুখে সঙ্গটিত বা উদ্গাতীত হইয়া থাকিলে তিনি উক্ত অপরাধ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই আমলে গ্রহণ করিয়া অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে, দোষী সাব্যস্ত করিয়া মোবাইল কোর্ট আইনের অধঈন দন্ড দিয়ে থাকেন। তাছাড়া এর পাশাপাশি সীমিত কিছু ধারায় ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতাঃ

১। ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপস্থিতিতে অপরাধকারী ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করা বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া ও হাজতে প্রেরণ করার ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ৬৪ ধারা)।

২। যে ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য তিনি পরোয়ানা ইস্যু করিতে পারেন সেই ব্যাক্তিকে তাঁহার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার করা বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ৬৫ ধারা)।

৩। পরোয়ানায় পৃষ্ঠাঙ্কন করা বা পরোয়ানা অনুসারে গ্রেপ্তারকৃত কোন আসামীকে অপসারণের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ৮৩,৮৪,৮৬ ধারা)।

৪। ডাক ও টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষের দ্বারা দলিলাদির জন্য তল্লাশি পরিচালনা ও উহা আটক করিবার ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ৯৫(২) ধারা)।

৫। অন্যায়ভাবে আটক ব্যাক্তিকে খুজিয়া বাহির করার জন্য তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ১০০ ধারা)।

৬। যে স্থান তল্লাশির জন্য তিনি তল্লাশি পরোয়ানা প্রদান করিতে পারেন সেইরূপ স্থান তাঁহার উপস্থিতিতে তল্লাশি করিবার নির্দেশ দানের ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ১০৫ ধারা)।

৭। শান্তি রক্ষার জন্য জামানত দাবি করার ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ১০৭ ধারা)।

৮। ভবঘুরে ও সন্দেহজনক ব্যাক্তির সদাচরণের জন্য জামানত দাবি করার ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ১০৯ ধারা)।

৯। সদাচরণের জন্য জামানত দাবি করার ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ১১০ ধারা)।

১০। জামিনদারকে রেহাই দেওয়ার ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ১২৬ক ধারা)।

১১। বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার আদেশ দানের ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ১২৭ ধারা)।

১২। বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য বেসামরিক বাহিনী ব্যবহারের নির্দেশ দানের ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ১২৮ ধারা)।

১৩। বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক বাহিনি ব্যবহারের নির্দেশ দানের ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ১৩০ ধারা)।

১৪। স্থানীয় উপদ্রব সম্পর্কে আদেশ দানের ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ১৩৩ ধারা)।

১৫। গণ উপদ্রবের আশু প্রতিরোধকল্পে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দানের ক্ষমতা (সি.আর.পি.সি ১৪২ ধারা)।

The Code of Criminal Procedure (Amendment) Act,2009 এর ধারা ২৩,২৪,২৬,২৭,২৮,২৯,৩৩, ৩৫,৩৬, ৩৮, ৩৯, ৪০,৪১, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৬, ও ৬০ ধারায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার বর্ণনা করা হয়েছে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতাগুলোঃ সি.আর.পি.সি এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬ক, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩, ১৪২)

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণের বিশেষ ক্ষমতাঃ ২৯গ, ৯৮, ২৬০, ১৯২, ৩৪৯, ১৬৪, ১৭৬, ১৯০ (সরকার কর্তৃক)।

অন্যতম বিশেষ কিছু ক্ষমতাঃ

২৯ ধারায়ঃ ২৯গ(খ) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেনির ম্যাজিস্ট্রেটকে মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বছরের অধিক সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় নহে এইরূপ সকল অপরাধের বিচার ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে করিবার ক্ষমতা অর্পণ করিতে পারিবেন।

২৬০ ধারায় সামারি ট্রায়ালঃ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেনির ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) বা প্রথম শ্রেনির ক্ষমতা সম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট বেঞ্চ বিভিন্ন অপরাধের (প্রেস্ক্রাইভড) সংক্ষিপ্ত বিচার করতে পারবেন। বর্ণিত দুইটি ধারায় ক্ষমতা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ ক্ষমতা হিসেবে সরকার কর্তৃক প্রদান করা হয়ে থাকে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতাঃ

১। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সকল সাধারণ ক্ষমতাসমূহ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা হিসেবেই পরিগণিত হবে।

২। সি.আর.পি.সি এর ১০(৪), ৯৫(১), ৯৬, ১০৮, ১২৪, ১২৫, ১৪৩, ১৪৪, ১৪৫, ১৪৬, ১৪৭, ১৪৮, ১৯৬খ, ৪৯২(২), ৫০৩-৫০৬, ৫১৫, ৫১৮, ৫২৮(২),৫৫২ ধারা।

৩। ময়না তদন্তের অনুষ্ঠানের জন্য ১৭৪ ধারা।

আজ এটুকুই। অতি সংক্ষিপ্তভাবে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন নবীন কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের জেলা প্রসাসকের কার্যালয়ের কাজের কিছুটা বিবরণ তুলে ধরার প্রয়াস এটা। কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। সংশোধনের উদ্দেশ্যে কেউ বললে খুশি হব।

যারা আগামীতে প্রশাসন ক্যাডারে আসতে চান আশাকরি এই লেখা তাদের কিছুটা হলেও কাজে লাগবে পাশাপাশি আমার বন্ধু, শুভাকাঙ্কীরাও মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কাজের এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্র সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পাবেন।

রেফারেন্সঃ জেলা প্রশাসন বাংলাদেশ, এ আর এম খালেকুজ্জামান; ও সি আর পি সি ১৮৯৮, পেনাল কোড, ১৮৬০, বিবিধ আইনের বই।

মোঃ শরীফ উদ্দিন

সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

নেত্রকোণা