Porasuna | Blog community for Educational Content

JobsNews24

The Most Popular Job Site in Bangladesh

যাঁরা বিসিএস পরীক্ষা দিচ্ছেন ……

Category: BCS Section Posting Date: 2016-12-08


যাঁরা বিসিএস পরীক্ষা দিচ্ছেন ……

কখনোই বলবেন না কিংবা ভাববেন না যে আপনার বিসিএস হবে না।
কেনো?

দুইটা কারণে।

এক। সৃষ্টিকর্তা মহান। তিনি আপনার প্রার্থনা কবুল করে ফেলতে পারেন। অনেক ব্যস্ত থাকেন তো! কতো মানুষ তাঁকে কতোকিছু নিয়ে রিকোয়েস্ট করে, পেইন দেয়!

দুই। সবসময় মনে রাখবেন, লাইক অ্যাটট্র্যাক্টস লাইক। এটাকে বলে, দ্য ল অব অ্যাটট্রাকশন। দেখেন না, যারা ফেসবুকে লাইক বেশি পায়, তারা পেতেই থাকে। যারা কমেন্ট বেশি পায়, তারা পেতেই থাকে। আপনি ভালোকিছু লিখলে কেউ পাত্তাই দেয় না, অথচ ওরা একটা ডট দিলেও শতশত লাইক পড়ে। কোনো সুন্দরীর পেয়ারি বিলাতি কুত্তাটার কোনো কারণে টয়লেট বন্ধ হয়ে গেলে সেটা কতো শত ছেলের হাহাকারের উৎস হয়ে দাঁড়ায়, কখনো দেখেন নাই? সুন্দরীর (সারমেয়র, আই মিন, কুত্তার) ব্যথায় ব্যথিত হয় না, এমন বুকের পাটা কার? অনেক বড়ো বড়ো মানুষকে বিশেষ বিশেষ কারণে নির্লজ্জ হতে দেখেছি। আপনার চিন্তা আর কাজের মিথস্ক্রিয়াও ওরকম। একটা উদাহরণ দেই। ধরুন, রাস্তায় হঠাৎ আপনার ছোটো বাথরুম পেল। আশেপাশে কোনো টয়লেট নাই। চেপে রাখলে প্যান্ট ভিজেটিজে কেলেঙ্কারি হয়ে যেতে পারে। সমাসন্ন প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা পেতে আপনি কেউ না দেখে মতো করে রাস্তার এক কোনায় গিয়ে ব্লাডারের প্রেশার কমাচ্ছেন, মনে মনে আপনার জানাঅজানা সকল দোয়াদরুদ সমানে পড়ে যাচ্ছেন যাতে পরিচিত কারোর সাথে দেখা না হয় আর এদিকওদিক তাকিয়ে দেখছেন, কেউ দেখে ফেললো কিনা কেউ দেখে ফেললো কিনা! হঠাৎ দেখবেন, কোত্থেকে আপনার এক স্টুডেন্ট এসে বলবে, স্লামালিকুম স্যার। ভালো আছেন? ওর মাথায়ই আসবে না কিংবা আসলেও ইচ্ছা করেই কমনসেন্স অ্যাপ্লাই করবে না যে, কুশল বিনিময় করার সময় এটা না। একটু ভাবুন তো! ওর কী দোষ? আপনিই তো এদিকওদিক তাকিয়ে ওর মতো কাউকেই খুঁজছিলেন।

বাথরুম (সেটা ছোটোই হোক কিংবা বড়োই হোক) করার সময় আর কোনো মিশনে থাকার সময় একমনে কাজ করতে হয়। আপনি চাচ্ছেন না, এমন চিন্তা মাথায় আনলে দেখবেন, কষ্ট করে সেটাকে মাথায় এনে সেটাকে সযত্নে লালন করে আপনি নিরাশ হচ্ছেন না। আরো দশটা অন্য চিন্তা এসে আপনার কাজের মোড় ‘নাটকীয়ভাবে’ ঘুরিয়ে দিচ্ছে। নেগেটিভ চিন্তাভাবনার ভাইবেরাদার সবসময়ই বেশি থাকে।

It always seems impossible until it’s done.

ম্যান্ডেলার এই কথাটা আমার কাছে সবসময়ই সত্য মনে হয়েছে। আমি যখন বিসিএস প্রিলি পরীক্ষা দেই, তখন মনে করতাম, প্রিলি পাস করা দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজ। তাই, এটার প্রতি একটা শ্রদ্ধাভাব আর আন্তরিকতা কাজ করতো। তবে, এটা কখনোই মাথায় আসেনি যে প্রিলিতে টিকবো না। শুধু এটা জানতাম যে রিটেন দেয়ার জন্যে আমাকে প্রিলি পাস করতেই হবে। একটা কাজ কঠিন, এটা তো আর আমার দোষ না। আমি তো আর কাজটাকে কঠিন করি নাই। আমার দোষ হলো, আমি কাজটা করতে চাচ্ছি কেনো? দুনিয়ায় করার জন্যে তো আর ভালো কাজের অভাব পড়ে নাই। করতে চাচ্ছিই যখন, এটা ঠিকভাবে করার বুদ্ধি বের করতে হবে। বুদ্ধি বের করতে না পারলে বরং সেটাই আমার দোষ।

কোনো বিসিএস ক্যাডারই বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন না, প্রস্তুতিপর্বে উনার কাছে বিসিএস ক্যাডার হওয়াটা ডালভাতের মতো মনে হয়েছিলো। তবে, এটা নিশ্চিত, উনারা বেশিরভাগই এটা ভাবতেন না যে উনাকে দিয়ে হবে না। যারা ক্যাডার হন, তাদের সাথে যারা ক্যাডার হতে পারেন না, তাদের পার্থক্য ২ জায়গায়। এক। তারা যা জানেন, তা কাজে লাগাতে পেরেছেন। দুই। তাদের ‘লাক ফেভার’ করেছে। এদের মধ্যে দ্বিতীয়টি আপনার হাতে নেই। ওটা সৃষ্টিকর্তার ওপর ছেড়ে দিতে হবে। শুধু যোগ্যতা দিয়ে সবকিছু হয় না। শেষ হাসিটা হাসার জন্যে বিনয়ের সাথে মুখ বন্ধ রেখে সিরিয়াসলি নয়, বরং সিনসিয়ারলি সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহের জন্যে ধৈর্য্যের সাথে অপেক্ষা করতে হবে। The game is always ON! একটু সততার সাথে ভেবে দেখুন, আপনার অতীতের অনেক সাফল্যই যতোটা না আপনার যোগ্যতা তার চেয়ে অনেকবেশি আপনার সৌভাগ্য। অন্তত আমার ক্ষেত্রে তা-ই হয়েছে। অতীতের অসম্মানগুলো নিয়ে অতো ভাববেন না। এমনকি, যদি সেটা আপনার প্রাপ্য নাও হয়। একটু ভেবে দেখুন, আপনি আপনার লাইফে এই পর্যন্ত অনেক ফাওফাও সম্মান পেয়েছেন, যেগুলো আদৌ আপনার প্রাপ্য নয়। সৃষ্টিকর্তা সবসময় এক ধরণের রহস্যময় ব্যাল্যান্সে কাজ করেন।

গুড লাক!