Porasuna | Blog community for Educational Content

JobsNews24

The Most Popular Job Site in Bangladesh

কানাডাতে উচ্চশিক্ষার বিস্তারিত তথ্য ও বিবরণ

Category: Career Guide Posting Date: 2016-09-17


কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ২ টা লেভেল : 1. আন্ডার গ্রাজুয়েট (ব্যাচেলের ডিগ্রি) 2. পোস্ট গ্রাড (মাস্টারস এবং পি এইচ ডি)

বছরকে এরা মূলত : ভাগ করে তিন সেমিস্টারে :

১। ফল (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর): এটাকেই একাডেমিক ইয়ার এর (শিক্ষা বর্ষের) শুরু ধরা হয়। সাধারনত সব ছাত্র-ছাত্রী এই সেমিস্টারে ভর্তি করা হয়। ভর্তির আবেদন এর সময় বিশ্ববিদ্যালয় অনুসারে আলাদা। সাধারনত আন্ডার গ্রাড লেভেল এ জুন এর দিকে এবং পোস্ট গ্রাড লেভেল এ মার্চ এর্প্রিল এর দিকে। উল্লেখ্য, ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শেষ সময় পযর্ন্ত অপেক্ষা না করাই ভালো।

২। উইন্টার (জানুয়ারি-এপ্রিল) : আন্ডার গ্রাড লেভেল এ অনেকেই উইন্টারে ছাত্র ছাত্রী ভর্তি করে। পোস্ট গ্রাডে এই সেমিস্টারে খুব বেশী নতুন শিক্ষার্থী নেয়া হয় না। তারপরেও চেষ্টা করতে পারেন । ভর্তির শেষ সময় অগাস্ট থেকে সেপ্টেম্বর এর মধ্যে।

৩। সামার (মে- আগষ্ট): এই সময় বেশী ভাগ শিক্ষার্থীর ছুটি থাকে। বিশেষ করে যারা আন্ডার গ্রাড লেভেলে পড়ে। পোস্টগ্রাডদের গবেষণা অথবা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। উল্লেখ্য বেশী ভাগ ছাত্র ছাত্রী যারা বাংলাদেশ থেকে পোষ্ট গ্রাড লেভেল এ পড়তে আসে, তারা রিসার্চ ফান্ড থেকে সাহায্য পায় বিনিময়ে অধ্যাপক ইচ্ছামত খাটিয়ে নেন।

শিক্ষাগত মান:

কানাডার শিক্ষার সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য দিক হলো এদের মান প্রায় সমান । সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি কিন্তু স্বায়ত্বশাসিত। যে বিশ্ববিদ্যালয় যে প্রোগ্রাম অফার করে, তার ভাল অবকাঠামো আছে। তাই কানাডার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর রেংকিং নিয়ে অনেকের দ্বিমত, ত্রিমত আছে। তবে কানাডায় পড়ার জন্য রেংকিং না দেখে অন্যন্য কিছু বিষয় দেখলে অনেক লাভবান হবেন। এগুলো নিয়ে পরে বলছি। এখানে বেশীরভাগ প্রোগ্রাম সেন্ট্রোলি কন্ট্রল করা হয়- বোর্ড এর মাধ্যমে। প্রকৌশল বিভাগ প্রত্যেক প্রভিন্স- এ (প্রভিন্স গুলো ইউএসএর স্টেট-এর মতো স্বায়ত্বশাসিত) একটি বোর্ড দিয়ে কণ্ট্রল করা হয়। অন্যান্য বিষয়ও কম বেশি তাই।

খরচ : এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই আলাদা ভাবে আলোচনা করছি।

থাকার খরচ: বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে থাকতে হলে ডর্মে (বাংলাদেশে হল-এর অনুরূপ) থাকতে হবে। খরচ হবে প্রতি চারমাসে ৩,০০০ থেকে ৭,০০০ ডলার পর্যন্ত সুযোগ সুবিধার উপর ভিত্তি করে। খাওয়ার খরচ মিল প্ল্যান এ আলাদা ভাবে কিনতে হবে । ডর্মে থাকলে সেটা সাধারণত বাধ্যতামূলক। ডর্মে থাকা বাঙ্গালি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সম্যসা হল খাওয়া। মোদ্দা কথা ডর্মে থাকা অনেক ব্যয়বহুল কিন্তু ঝামেলা মুক্ত। যারা ক্যাম্পাসের বাইরে থাকেন তাদের খরচ একজনের জন্য এরকম হয়: ১। বাসা ভাড়া : ২৫০-৮০০ ডলার ( শেয়ার করে থাকলে কম খরচ) ২। যোগাযোগ : বাস পাশ (৬০-১৫০) অনেক প্রভিন্স এ শিক্ষার্থীদের বাস পাশ ফ্রি। (যেমন আলবারটা) ৩। খাওয়া : বাসায় রান্না করলে ১০০-২০০; বাইরে খেলে: ৩০০-৬০০ ডলার ৪। ফোন বা ইন্টারনেট : শেয়ার করলে খরচ অনেক কমে যায়। কমপক্ষে ৫০-১০০ ধরে রাখুন।

উল্লেখ্য: খরচ শহর থেকে শহরে আলাদা হতে পারে। আপনার থাকার উপর - ও নির্ভর করে । উপরের খরচ একজনের মোটামুটি থাকার মত খরচ। এখন পড়ালেখার খরচ -এ আসা যাক। প্রতি একাডেমীক ইয়ার এ বিশ্ববিদ্যালয় ফি বাবদ খরচ প্রায় ১৫,০০০ থেকে ২৮,০০০ কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত, ইমিগ্রেন্ট বা সিটিজেন-দের জন্য এ খরচ ৪,০০০ থেকে ৭,৫০০ ডলার পযর্ন্ত, কিছু কিছু বিশ্ব বিদ্যালয় আবার আরো অনেক কম বেতন (৮-১৪ হাজার ডলার)। সাধারণত এসব বিশ্ববিদ্যালয় একটু ছোট শহরে অবস্থিত হয়। তাই ক্যারিয়ার এর দিকে সুবিধা কম থাকে। কিন্তু ভালো দিক হলো খরচ অনেক কমে যায়।

টাকা আসবে ? আণ্ডার গ্রাড : আণ্ডার গ্রাড-দের জন্য কানাডায় খুব বেশি সুবিধা নেই। অল্পকিছু বিশ্ববিদ্যালয়- এই লেভেলে স্কলারশীপ দেয়; যা মূল খরচ এর চেয়ে অনেক কম। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়, যারা বেশি বেতন রাখে তারা স্কলারশীপ দিয়ে রেগুলার বেতনের সমান করে দেয়ার মত সৈাজন্য দেখায়। ভালো রেজাল্ট করলে ছোটখাটো কিছু স্কলারশীপ পাওয়া যায়। একাধিক স্কলারশীপ পেলে চাপ অনেক কমে যায় যা পাওয়া অনেক কঠিন। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পলিসিতে বলাই থাকে শুধু মাত্র আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রী হওয়ার কারণে আপনি কোন স্কলারশীপ পেতে পারবেন না। এটা চেক করা গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে কিছু প্রোগ্রামে কো-অপ নামে একটি অপশন অফার করে। এটি অনেকটা ইন্টার্নশিপ-এর মত। তবে কোম্পানিগুলো পে করে এবং বেশ ভালো অঙ্কের। তবে কো-অপ এ ঢুকতে হলে অনেক ভালো সিজিপি ও লাগে, একটি অতিরিক্ত কোর্স এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিক্ষা দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় ফি বাবদ, তবে যা আসে তা অনেক সাহায্য করে। এ ছাড়াও অফ-ক্যাম্পাস ওয়ার্ক পরিমিট এর সুবিধা আছে। এই সুবিধা পেতে অবশ্য প্রায় বছরখানেক অপেক্ষা করতে হয়। ৬ মাস ফুলটাইম পড়াশুনার পরে আপনি এপ্লাই করতে পারবেন, কিন্তু কাগজ যোগাড় করতে সময় লাগায় মোট প্রসেসিং সময় ১৫ দিনের বদলে কমপক্ষে ৩ মাস লাগে। সব মিলিয়ে প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হবে কাজ করার পারমিশন এর জন্য। এর আগে ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করা অবৈধ। তার আগে এবং পরে অন্য ক্যাম্পাসে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারেন- যা পাওয়ার সম্ভবনা শুরুর দিকে খুবই ক্ষীণ। অফ/অন ক্যাম্পাস কাজ করে থাকা খাওয়ার খরচ তোলা সম্ভব।

মূলত, যারা কমপক্ষে পুরো ৩ বছরের টিউশন ফি + প্রথম বছরের থাকার খরচ দোয়ার মত টাকা দিতে সক্ষম শুধু তাদের আসা উচিত। কেন? কানাডাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পণ্যের মত দেখা হয়। কানাডার জাতীয় রপ্তানির একটি বড় অংশ হল শিক্ষা। এখানকার ব্যবস্থা এমন ভাবে করে রাখা আছে যে আপনি কোন আর্থিক সমস্যায় পড়লে সাহায্য করার কেউ নেই। আবার টাকার অভাবে ক্লাস না করলে আপনাকে ওয়ার্ক পারমিট দিবেনা। তাই সবদিক থেকে বিপদ। একবার এরকম অবস্থায় পড়লে তা থেকে বের হওয়া কঠিন এবং অনেকটাই অসম্ভব। এখানেও আপনাকে সহজে ইমিগ্রেশন ও দিবেনা। যদি আর্থিক সঙ্গতি না থাকে তাহলে বরং বাংলাদেশে ব্যাচেলরস শেষ করে আসুন। পোস্ট গ্রাড এ এখানে অনেক সুবিধা।

ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা: আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ভর্তির জন্য কমপক্ষে ১২ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে। গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির জন্য লাগবে ১৬ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা। কানাডায় উচ্চশিক্ষার জন্য ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ এ দুটো ভাষার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এই দুটোর যেকোনো একটি ভাষা পড়তে পারবেন। ইংরেজি ভাষার প্রতিষ্ঠানগুলো ভাষাগত যোগ্যতা হিসেবে টোফেল, আইইএলটিএস, জিম্যাট, জিআরইকে প্রাধান্য দেয়। টোফেলের আইবিটি স্কোর থাকতে হবে ন্যূনতম ৭৫। অন্যদিকে যাঁরা আইইএলটিএস করেছেন, তাঁদের জন্য স্কোর প্রয়োজন নূন্যতম ৬। ভাষাগত যোগ্যতা ছাড়াও কিছু প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। তবে এক্ষেত্রে ভর্তির পর প্রতিষ্ঠানে ভাষার ওপর ESL (English Second Language) মৌলিক কোর্স করতে হবে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের টোফেল, আইইএলটিএস, জিম্যাট, জিআরই না থাকলেও হবে। ফ্রেঞ্চ ভাষার প্রতিষ্ঠানে পড়তে চাইলে ওই প্রতিষ্ঠানে ফ্রেঞ্চ ভাষার ওপর লিখিত পরীক্ষা দিতে হয়। এটি তারা নিজস্ব নিয়মে নিয়ে থাকে। কানাডায় পড়ালেখার জন্য শক্ত পৃষ্ঠপোষকতা দেখাতে হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীকে তাঁর পৃষ্ঠপোষকের ন্যূনতম ২০ লাখ টাকা ব্যাংক হিসাব দেখাতে হবে এবং এই টাকা ন্যূনতম এক বছর ব্যাংকে থাকতে হবে।

পোস্টগ্রাড : সাধারণত এই লেভেল-এ আসা সব ছাত্র-ছাত্রী স্কলারশীপ এবং বিভিন্ন ফান্ডিং এ আসে। টি.এ. (টিচিং এসিস্টেন্ট-ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ করে আন্ডার গ্রাড-দের সাহায্য করা), আর.এ. (রিসার্চ এসিস্টেন্ট-গবেষণায় সাহাযয় করা) এবং বৃত্তির টাকা মিলে সাধারণত যে টাকা অফার করে তাতে একা হলে নিজের টিউশন ফি, থাকা খরচ-এর পরেও বাসায় টাকা পাঠাতে পারবেন। তবে ভর্তি অনেক প্রতিযোগিতা মূলক। শর্ত একটাই, এভারেজ সাধারণত A-রাখতে হবে। এর চেয়ে কমে গেলে বেতন আবার পুরোটা দিতে হবে আপনাকে। তাই এই কথাটি মাথায় রেখে মন দিয়ে পড়লে আশা করি কোন সমস্যা হবেনা। আর যারা সামর্থ রাখেন খরচ করার কিন্তু রেজাল্ট ভালো নেই তারা খরচ আসতে পারেন।

ভর্তি : বাংলাদেশ থেকে আন্ডার গ্রাড লেভেলে ডাইরেক্ট এপ্লাই করা একটু কষ্টসাধ্য। তবে আর্ন্তজাতিক ক্রেডিট কার্ড থাকলে কাজটি অনেক সহজ হয়ে যায়। নিচে কিছু লিঙ্ক দেয়া হবে যেগুলো আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েব সাইটে গেলেই দেখবেন শুরুর পেইজ-এ "প্রোস্পেক্টিভ স্টুডেন্ট" অথবা "ফিউচার স্টুডেন্ট" নামে একটি লিঙ্ক; তারা জানতে চাইবে আপনি কোন লেভেল-এ আগ্রহী। এখন নিশ্চয়ই জেনে গেছেন কোন লেভেল। সেখানে প্রয়োজনীয় সব তথ্য, যোগ্যতা, আবেদন পত্র পাবেন। দুইভাবে আবেদন করা যায়। ১. কাগজের মাধ্যমে ২. অনলাইনে সরাসরি।

কাগজের মাধ্যমে আবেদন করার ফরম অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে প্রিন্টআউট করতে পারেন। ব্যাংকড্রাফট করতে যে কি ঝামেলা হবে সেটা বলতে চাইনা-হয়তো এটাই হবে আপনার প্রথম বাধা। অনলাইনে এপ্লাই করার সময় মনে রাখবেন এটা সিরিয়াস ব্যাপার। আবেদন পত্র শেষ হওয়ার পরে প্রয়োজনীয় ফি না দিলে এটা কোন কাজে আসবে না। এবং আবেদন করার আগে শিওর হয়ে নিবেন সেটা ঠিক সাইট। অনেক ভুয়া সাইটে প্রতারিত হতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় সম্বন্ধে অবশ্যই খবর রাখবেন বিশেষভাবে ওয়েবে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের সম্বন্ধে বলা সব কথা।

১। বিশ্ববিদ্যালয়-টির নাম আপনি আগে কারো কাছ থেকে শুনেছেন কিনা। ২। শুনে থাকলে কি শুনেছেন। ৩। আপনি যে বিষয়ে আগ্রহী সেই বিষয়ে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা সাইট থাকলে সেখানে যান। তাদের ফেকাল্টিদের প্রোফাইল দেখুন। কি কি রিসার্চ করে তা দেখুন। ৪। আপনার আগ্রহের প্রোগ্রামে কি কি ফেসিলিটি আছে তা দেখুন। ৫। ঐ বিষয়ে তাদের কোন সাম্প্রতিক সাফল্য দাবি করার মত কিছু আছে কিনা দেখুন। থাকলে তা যাচাই করুন। ৬। বিশ্ববিদ্যালয়টি স্কলারশীপ প্রদানে কতটা উদার খবর নিন। ৭। পোস্ট গ্রাড লেভেল হলে ডিপার্টমেন্ট এর উপরের দিকের কারো (চেয়ারম্যান, ডিন, এসোসিয়েট ডিন অথবা আপনার গবেষণার বিষয়ের সাথে মিলে এমন কোন অধ্যাপক) সাথে যোগাযোগ করুন এপ্লাই করার আগে। ৮। বিশ্ববিদ্যালয়টি যেই শহরে অবস্থিত তা সম্পর্কে জানুন। সেখানে কি কি ইন্ডাষ্ট্রি আছে- সেসব জায়গায় আপনার বিষয়ের চাহিদা কি রকম। দিন শেষে লোকালদের প্রাধান্য সবাই দেয়। ৯। থাকার সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খবর নিন। এসব খবর সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অফিসে পাওয়া যায়। (আই এস ও নামে সাধারণত পরিচিত) পোস্ট প্রাড লেভেলে কোথাও কোথাও আপনাকে বলবে আসার পর একটা পরীক্ষা দিতে-কোন মডিউলে পাস না করলে কিছু আন্ডার গ্রাড কোর্স নিতে বলবে।

নিচে কিছু প্রয়োজনীয় সাইট এর এড্রেস:

১। http://www.ouac.on.ca/- এটি অন্টারিওর বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তির অনলাইন সাইট। এটার মাধ্যমে এপ্লাই করতে পারেন অথবা সরাসরি এপ্লাই করতে পারেন। এটা নির্ভরযোগ্য। খরচ একটু বেশি-কিন্তু টাকা কোথায় ঢাললেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবেনা এবং অনলাইনে আপনার ভর্তির স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। এপ্লাই করার পর এই সাইট নিয়মিত চেক করা উচিত। সঠিকভাবে ফরম পূরণ করবেন।

২। htt://www.aucc.ca/index_e.html কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাইট। এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন। কিন্তু সব সঠিক নয় (কিছুটা এদিক সেদিক)।

৩। htt://oraweb.aucc.ca/dcu_e.html- প্রোগ্রাম অনুসারে সার্চ করে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি লিস্ট বানাতে পারেন।

৪। htt://cic.gc.ca/english/study/index.asp- সরকারি সাইট- এখানে স্টাডি পারমিট এবং পড়াশুনা বিষয়ক সবধরণের ফর্ম এবং সরকারি সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন।

৫। htt://www.studyincanada.com/english/index.asp আরেকটি উপকারী সাইট।

উপরের লেখাটি যারা পড়লেন তারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন আন্ডারগ্রাড লেভেল-এ সামর্থ্য না থাকলে কানাডাতে না আসাটাই ভাল। কারণ দুইটা :

১। আন্ডার গ্রাড লেভেল-এ বাংলাদেশের পড়াশুনার মান কোনো অংশে কম নয়। আপনি সতর্ক থাকলে এবং চোখ-কান খোলা রেখে নতুন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হলে কানাডার সাথে খুব বেশী ব্যবধান থাকবেনা।

২। বাংলাদেশে ভালো কোথাও ভর্তি হতে না পেরে কানাডাতে আসার চিন্তা করে থাকলে বলব আপনি বিপদে পড়বেন। প্রথমত আপনার রেজাল্ট ভালনা; কানাডায় গিয়ে পারফরমেন্স ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ কানাডাতে পড়ালেখা অনেক কঠিন। আবার টাকা না থাকার কারণে কোথায় সাহায্য পাবেন না। কাজ করে বেতন+থাকা খরচ তোলা অসম্ভব। একেবারেই অসম্ভব। তাই নিজের জীবন নষ্ট না করে বাংলাদেশে কোনো প্রাইভেট ইউনির্ভাসিটিতে গ্রাজুয়েশন শেষ করুন। দেশে অনেক অনুকুল পরিবেশ পাবেন।তারপর ইমিগ্রেশনে এপ্লাই করে চলে আসুন।

টিউশন ফি ও থাকার ব্যবস্থা : কানাডার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি একই রকম হয় না। অঞ্চল ও পড়ানোর প্রোগ্রামভেদে টিউশন ফি ও ভিন্ন ভিন্ন হয়। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর টিউশন ফি বেশি হয়। আন্ডারগ্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য খরচ পড়বে ১৭ থেকে ২০ হাজার ইউএস ডলার। গ্র্যাজুয়েট, ডক্টরাল ও অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রির জন্য খরচ পড়বে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ইউএস ডলার। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রথম ছয় মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকতে হয়। পরে তাঁরা ইচ্ছা করলে ক্যাম্পাসের বাইরেও থাকতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়।

খন্তকালীন কাজের সুযোগ : কানাডায় শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে খন্ডকালীন কাজের সুযোগ। সপ্তাহে একজন শিক্ষার্থী ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারেন। শিক্ষক সহকারি, বিক্রয়কর্মী, ফুড ক্যাটারিং, গবেষণা সহকারি, কম্পিউটার ওয়ার্কসহ বিভিন্ন খন্তকালীন কাজ শিক্ষার্থীরা করতে পারেন।

ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা : বাংলাদেশে থেকে কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া কানাডায় এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়। গ্র্যাজুয়েট ও আন্ডারগ্যাজুয়েট পর্যায়েই মূলত ক্রেডিট ট্রান্সফার হয়। তবে ক্রেডিট ট্রান্সফার কত শতাংশ পর্যন্ত করা যাবে, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শর্তারোপ করে।